সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দলগুলো কারা?

খেলাধুৃলা ডেস্ক:

বিশ্বকাপের পরবর্তী চ্যাম্পিয়ন কে হবে, তা নিয়ে করা অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়। এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ থাকে চরম পর্যায়ের, আর জয়-পরাজয়ের ব্যবধানও থাকে খুবই সামান্য। ফলে শক্তিশালী কোনো দলও অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নিতে পারে। তবুও ইতিহাস বলছে, ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফিটি এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি দেশই জিততে পেরেছে।

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এরই মধ্যে বিশ্লেষক ও বাজির বাজারের মূল্যায়নে ছয়টি দলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলগুলো হলো স্পেন, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল এবং ব্রাজিল।

স্পেন

স্পেনকে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দুই দলের একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপ ২০২২’র পর গত চার বছরে দলটি ২০২২-২৩ উয়েফা নেশনস লিগ, ইউরো ২০২৪ এবং প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪’র পুরুষ ফুটবল টুর্নামেন্ট জিতেছে। ইউরোপীয় বাছাইপর্বেও তারা নিজেদের গ্রুপে অপরাজিত থেকে সহজেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে স্পেনের অবস্থান দ্বিতীয়।

স্পেন এখন আক্রমণাত্মক ও বেশি গোল করা দল হিসেবে পরিচিত। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের সময় যে বল দখলভিত্তিক খেলার ধরন ছিল, তার সঙ্গে তারা এখন গতি ও সরাসরি আক্রমণের কৌশল যোগ করেছে। দলটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। তাদের বড় শক্তি হলো উইং দিয়ে একক নৈপুণ্য দেখানোর ক্ষমতা এবং বল হারানোর পর দ্রুত প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তবে দলটির দুর্বলতা হলো, অনেক খেলোয়াড়ই এখনো তরুণ এবং অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলার কারণে কখনো কখনো রক্ষণভাগ ঝুঁকিতে পড়ে যায়।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। অল্প বয়সেই রেকর্ড গড়া এই ফুটবলারকে অনেকেই ভবিষ্যতের লিওনেল মেসি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। তবে চোট থেকে সেরে প্রথম গ্রুপ ম্যাচের আগে পুরোপুরি ফিট হতে তাকে সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া বাম প্রান্তের দ্রুতগতির উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস এবং মিডফিল্ডের অন্যতম নিয়ন্ত্রক পেদ্রিও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। স্পেনের স্কোয়াডে প্রায় সব পজিশনেই ভালো বিকল্প খেলোয়াড় রয়েছে। তবে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফারমিন লোপেজ পায়ের চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে পারেন।

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এই নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য কাজে লাগাতে সফল হয়েছেন, যা স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।

ফ্রান্স

ফ্রান্সকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২২ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। তারা ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এবং ২০২২ সালে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হারায়। এবারও ফাইনালে উঠতে পারলে তা হবে তাদের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দুর্দান্ত আক্রমণভাগ। দলে এত বেশি তারকা খেলোয়াড় রয়েছেন যে বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলেকেও কখনো কখনো বেঞ্চে বসিয়ে রাখা যায়। তবে দলের সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০১৮ সাল থেকেই তিনি ফ্রান্সের প্রধান ভরসা। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন এবং বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।

দেম্বেলে ২০২৫ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। যদিও চোটের কারণে তিনি কিছু সময় মাঠের বাইরে ছিলেন, বর্তমানে আবারও ছন্দে ফিরেছেন। অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখের উইঙ্গার মাইকেল ওলিসেও ফ্রান্সের আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র। জাতীয় দলে তিনি প্রায়ই এমবাপ্পের পেছনে আক্রমণভাগে খেলেন।

ফ্রান্স শুধু বল দখল করে খেলার ওপর নির্ভর করে না। তারা দ্রুত পাল্টা আক্রমণেও সমান দক্ষ। তাদের ফরোয়ার্ডদের গতি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। পাশাপাশি দলটির মিডফিল্ড শক্তিশালী এবং রক্ষণভাগও বিশ্বমানের।

ফ্রান্সের আরেকটি বড় সুবিধা হলো অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয়। গত দুই বিশ্বকাপে সবগুলো ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদের নকআউট পর্বে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। চাপের মুহূর্ত কীভাবে সামলাতে হয়, তা এই দল খুব ভালোভাবেই জানে।

কোচ দিদিয়ের দেশম ফ্রান্সকে ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন। পরে কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন এবং ২০২২ সালে রানার্সআপ করান। তিনি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপই হবে ফ্রান্সের দায়িত্বে তার শেষ টুর্নামেন্ট।

আর্জেন্টিনা

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে। দলটি এমন একটি কীর্তি গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে, যা এর আগে শুধু ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২) করতে পেরেছে, অর্থাৎ টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা।

কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পরও আর্জেন্টিনার সাফল্যের ক্ষুধা কমেনি। তারা ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জিতেছে এবং দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ আধিপত্য দেখিয়েছে।

আর্জেন্টিনার খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পুরো মাঠজুড়ে তীব্র লড়াকু মানসিকতা। বল হারানোর পর দ্রুত প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে এবং বল ফিরে পেলেই আক্রমণে চলে যায়। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত একটি ব্যতিক্রমী বিষয়, তাদের অনেক খেলোয়াড়ই ক্লাবের তুলনায় জাতীয় দলের জার্সিতে আরও ভালো খেলেন।

দলের সবচেয়ে বড় তারকা এখনও লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী এই কিংবদন্তিকে অনেকেই ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় মনে করেন। বয়স ৩৮ হলেও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামলেই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। সর্বশেষ কোপা আমেরিকা জয়ের পাশাপাশি বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ গোলদাতাও ছিলেন তিনি।

আর্জেন্টিনার দলের মেরুদণ্ডও বেশ শক্তিশালী। গোলপোস্টে আস্থা জোগান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণভাগে বিশেষ করে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছেন। মিডফিল্ড নিজেদের পরিচিত ছন্দ ধরে রেখেছে, আর আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা লাউতারো মার্তিনেজ যে কেউ গোলের যোগান দিতে পারেন।

কোচ লিওনেল স্কালোনি বিশ্বজয়ী দলটিকে এখনও অনুপ্রাণিত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন খেলোয়াড়দেরও সফলভাবে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তার অধীনে আর্জেন্টিনা এমন একটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে, যা শীর্ষ দলগুলোর মধ্যেও বিরল। প্রতিপক্ষ অনুযায়ী তারা নিজেদের কৌশল ও ফরমেশন বদলাতে পারে, কিন্তু খেলার মানে কোনো প্রভাব পড়ে না। ম্যাচ শুরুর আগে এবং চলাকালে স্কালোনির কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও বদলি খেলোয়াড় নামানোর দক্ষতা প্রায়ই দলের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করে।

পর্তুগাল

ফুটবল বিশ্বের কাছে পর্তুগালের একটি বিশেষ অবদান রয়েছে। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করা দেশগুলোর একটি। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ হতে পারে তাদের সেই প্রতিভার পূর্ণ মূল্য পাওয়ার সুযোগ। পর্তুগাল এমন একটি পরিণত ও গোছানো খেলার ধারা গড়ে তুলেছে, যা তাদের ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিততে সাহায্য করেছে। ইউরোপীয় বাছাইপর্বেও তারা নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে সহজেই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। অনেকের মতে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি হলো পর্তুগাল।

দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের কথা বলতে গেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম সবার আগে আসে। বয়স বাড়লেও তার প্রতিভা ও জয়ের ক্ষুধা এখনো অটুট। ৪১ বছর বয়সে তিনি ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্ন, বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন। নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে তার গুরুত্বপূর্ণ গোলই প্রমাণ করে, তিনি এখনো ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারেন।

ব্রুনো ফার্নান্দেস আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার মূল কারিগর। মিডফিল্ডে ভিতিনহা বলের গতি ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আর ডান প্রান্তে বার্নার্দো সিলভা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি, কারণ তিনি অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে আক্রমণ তৈরি করতে পারেন।

দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নুনো মেন্দেস। অনেকের মতে, তিনি বর্তমানে বিশ্বের সেরা লেফট ব্যাকদের একজন। তার গতি ও নিখুঁত খেলার কারণে কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের সঙ্গে তুলনা করা হয়। রাফায়েল লিয়াওয়ের সঙ্গে তার জুটি পর্তুগালের বাম প্রান্তকে বিশ্বের দ্রুততম আক্রমণভাগগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেন রুবেন দিয়াস।

কোচ রবার্তো মার্টিনেজ দলের খেলার ভিত্তি গড়ে তুলেছেন বল দখল ও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের ওপর। পর্তুগাল প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করতে চায়, এরপর দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলে। তাদের দলে এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা এক মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে সক্ষম।

ইংল্যান্ড

ফুটবলের জন্মদাতা দেশ ইংল্যান্ড ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে মরিয়া। প্রতিটি বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডকে সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত প্রতিভাকে তারা খুব কমই শক্তিশালী দলীয় পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারে। তবে এবার তারা ইউরোপীয় বাছাইপর্বে দারুণ সাফল্য নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। আটটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে এবং একটিও গোল হজম করেনি।

থ্রি লায়ন্সদের সবচেয়ে বড় তারকা হ্যারি কেন। তিনি দলের অধিনায়ক এবং ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার গত মৌসুমে অবশেষে বড় কোনো শিরোপা না জেতার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান, যখন বায়ার্ন ২০২৪-২৫ মৌসুমের বুন্দেসলিগা জেতে। পরে তারা সেই সাফল্য ধরে রাখে। ৩২ বছর বয়সী কেন দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। তার বল নিয়ন্ত্রণ, খেলার দৃষ্টি এবং গোল করার নানা দক্ষতা তাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। ডান প্রান্তে বুকায়ো সাকা দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তার গোলেই আর্সেনাল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছিল। রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহ্যাম মিডফিল্ডের অন্যতম বড় অস্ত্র, আর চেলসির কোল পামার আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরিতে দক্ষ হলেও এই মৌসুমে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কিছুটা সংগ্রাম করেছেন।

ইংল্যান্ডের আরেকটি বড় শক্তি হলো আকাশপথে আক্রমণ। কর্নার, ফ্রি-কিক বা ওপেন প্লে, সব ক্ষেত্রেই তাদের নিখুঁত ক্রস এবং হেডের দক্ষতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

কোচ থমাস টুখেল হ্যারি কেনকে কেন্দ্র করে একটি স্থিতিশীল দল গড়ে তুলেছেন। তবে ইংল্যান্ডের বড় উদ্বেগ হলো, তারা অনেকটাই কেনের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে তিনি খেলতে না পারলে বা প্রতিপক্ষ তাকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারলে বিকল্প সমাধান খুঁজে পাওয়া দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ব্রাজিল

ব্রাজিলকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার মনে করা হলেও স্পেন, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার তুলনায় তাদের কিছুটা পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল এই দেশের জন্য বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা।

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২’র পর থেকে ব্রাজিল চারজন কোচের অধীনে খেলেছে। প্রথমে দুইজন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ দায়িত্ব পালন করেন, এরপর সবাইকে চমকে দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় কার্লো আনচেলোত্তিকে। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি প্রধান কোচ। চার বছরে চারজন কোচ বদল হওয়াই দলের পরিচয় সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের ব্রাজিল দল আগের প্রজন্মগুলোর মতো তারকাসমৃদ্ধ নয়। আক্রমণভাগের চেয়ে রক্ষণভাগে তাদের বিকল্প বেশি। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার তার গতি, ড্রিবলিং, গোল এবং অ্যাসিস্ট দিয়ে দলের প্রধান আক্রমণাত্মক অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে রাফিনহা ডান প্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তবে ব্রাজিল এখনো একজন নির্ভরযোগ্য মূল স্ট্রাইকার খুঁজে পায়নি। যদিও তরুণ প্রতিভা এন্দ্রিককে অনেকেই সেই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখছেন। মিডফিল্ডও আগের তুলনায় বেশি সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে রক্ষণভাগের ওপর চাপ কমে। কোচ আনচেলত্তির পরিকল্পনায় আগে দলীয় কাঠামো ও ভারসাম্য, এরপর আক্রমণ।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নের নাম নেইমার। ব্রাজিলের এই তারকা এখনও তার সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি। আনচেলত্তি একাধিকবার বলেছেন, উত্তর আমেরিকায় দলের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখতে হলে নেইমারকে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স আরও উন্নত করতে হবে। তবুও ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটলারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়েছে।

যদিও ব্রাজিলের বর্তমান দলে আগের মতো অসংখ্য বিশ্বমানের তারকা নেই, তবুও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। তাদের ঐতিহ্য, প্রতিভা এবং বড় মঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য এখনও বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

আগের প্রজন্মের মতো অতটা অসাধারণ প্রতিভা না থাকলেও, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে অগ্রাহ্য করার সাহস কারই বা হবে?

ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION